ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা জানাতে প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে

শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া’র প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছে।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল এবং প্রশিক্ষণ সেবাখাতের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল শিক্ষা বিষয়ক তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ, ভারত এবং ভুটান সফর করছেন। এবং তাদের এই সফরে সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের একটি হোটেলে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদল।

চলতি সপ্তাহে এই প্রতিনিধি দলটি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবগত করতে এবং চতুরি ও শিক্ষাবৃত্তি সংক্রান্ত প্রোগ্রামের বিষয়ে সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানাতে বাংলাদেশ সফরে আসেন।

এই কর্মসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সুযোগগুলোর মধ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রদেয় বৃত্তি ছাড়া আরো রয়েছে- প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সার্টিফিকেট অব এডুকেশন বার্সারি প্রোগ্রাম এর মতো উদ্যোগ।

এই সফরে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব মূলক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুল এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার স্কুল কারিকুলাম এন্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটির মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ফার্স্ট কারিকুলাম লাইসেন্সিং এগ্রিমেন্ট-এর স্বীকৃতি প্রদানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেখানে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা করলে শিক্ষার্থীদের পার্থ শহরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নের জন্য আবেদন করা সহজ হবে। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গত বছর ভর্তির এই সংখ্যা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ।

এতে বলা হয়, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার বৈচিত্র ভাগাভাগি করে নেওয়া থেকে শুরু করে সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিসরে নিজেদের মেধার মূল্যায়নের সুযোগ ও সুবিধাই পেয়ে থাকেন।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষামন্ত্রী ডেভিড টেম্পলম্যান বলেন, “দক্ষিণ-এশিয়া অঞ্চলের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক এবং আমাদের বৈশ্বিক ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া শিক্ষার্থীদের শীর্ষমানের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, একটি দারুণ জীবনযাপন এবং প্রচুর কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কারণে শিক্ষাগ্রহণের জন্য একটি উপযোগী গন্তব্যে পরিণত হতে পেরেছে। প্রতিনিধি দলের এই মিশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, “তরুণ প্রজন্মের বিকাশের জন্য শিক্ষা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার এবং এ থেকে শুধুমাত্র কোনো একক ব্যক্তিই লাভবান হয় না, বরং তাদের সম্প্রদায় ও জাতি উপকৃত হয়।”

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এই সফরকারী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশের মিশনটি মূলত শিক্ষাগত সম্পর্ক জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আমূল পরিবর্তন বয়ে আনবে এমন সুযোগ তৈরি করবে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!