চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রাতের অন্ধকারে মুহূর্তে আগুনে পরিণত হয় একটি পুরো বাজারঘেঁষা এলাকা। ওয়েল্ডিংয়ের সময় ছিটকে পড়া আগুনের ফুলকি থেকে সূত্রপাত হয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একের পর এক দোকানে আগুন ধরে যায়।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সোনারগাঁ এলাকায় হাসান ড্রাইভার ও ইউসুফের মালিকানাধীন দোকান থেকে শুরু হওয়া আগুনে ৮ থেকে ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্ক্যাপ জাহাজের বিভিন্ন মালামালের ব্যবসায়ীরা মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি দোকানে দ্বিতীয় তলা ভবনের কাজ চলছিল। ওই সময় ওয়েল্ডিংয়ের আগুনের ফুলকি নিচে পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানগুলোতে দাহ্য স্ক্যাপ মালামাল থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
আগুন লাগার পর প্রথমে স্থানীয় লোকজন নিজেরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। পানি সংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগেই দোকানগুলোর বেশির ভাগই পুড়ে যায়।
মহাসড়কের পাশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ধীর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুসলিম বলেন, একটি দোকানে দ্বিতীয় তলা ভবনের কাজ করার সময় ওয়েল্ডিংয়ের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে প্রায় ৮ থেকে ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আল মামুন জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগুনের সঠিক সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবসায়ী দোকানের কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।




