এসএ পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান থেকে জব্দ লাখ লাখ টাকার অরিস-প্যাট্রন সিগারেট

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া এসএ পরিবহন–এর একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। খেলনা ও ক্রোকারিজ লেখা কার্টুনের আড়ালে কৌশলে এসব সিগারেট পরিবহন করা হচ্ছিল বলে পুলিশের ধারণা।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-২৯২০ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। পরে গাড়িটি শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে খেলনা ও ক্রোকারিজ লেখা চারটি বড় কার্টুনের ভেতর থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের ORIS ও PATRON সিগারেটের চালান উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হিসাবে জব্দকৃত সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা ধরা হলেও বাস্তব বাজারদর আরও বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাইট ডিউটিতে থাকা এসআই ইমরান ফয়সাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি থামান। গাড়িতে থাকা বুকিং চালান কপিতে খেলনা ও ক্রোকারিজ পণ্য পরিবহনের তথ্য ছিল। কিন্তু কার্টুন খুলে দেখা যায়, মোট ৬০০ বড় প্যাকেটে সিগারেট ছিল, যেখানে প্রতিটি বড় প্যাকেটে ১০টি করে ছোট প্যাকেট হিসেবে ৬ হাজার ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রতিটি ছোট প্যাকেটের মূল্য ২০০ টাকা ধরে মোট ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করে মামলা রুজু করেছে।

তবে বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ORIS ব্র্যান্ডের এক প্যাকেট (২০ স্টিক) সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অপরদিকে PATRON ব্র্যান্ডের কিছু প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্ট বিশেষ দোকান বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৪০০ থেকে ২৯০০ টাকায় বিক্রির তথ্যও পাওয়া যায়। সে হিসেবে চালানের প্রকৃত বাজারমূল্য পুলিশের হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

কাভার্ড ভ্যানের চালক নোয়াখালীর শহিদ উল্ল্যাহ জানান, মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে গাড়ি আটক করে শিকলবাহা ফাঁড়িতে নেওয়া হয় এবং সব বৈধ কাগজপত্রসহ মালামাল জব্দ করা হয়। অন্যদিকে এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার জেনারেল ম্যানেজার মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কেবল গ্রাহকের বুকিং করা পার্সেল পরিবহন করে এবং কোনো মালামাল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নয়। প্রতিটি চালানের প্রেরক ও প্রাপকের তথ্য সংরক্ষিত থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, কাভার্ড ভ্যানটি সরল বিশ্বাসে মালামাল পরিবহন করছিল। গাড়িতে অন্যান্য বৈধ ও পচনশীল পণ্য থাকায় জনদুর্ভোগ এড়াতে বাকি মালামালসহ ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় বগুড়া ও কক্সবাজার এলাকার তিনজনকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে সিগারেট আমদানি করে চোরাচালানের মাধ্যমে সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শাহীনূর আলম বলেন, জব্দ করা সিগারেটের পরিমাণ অনুযায়ীই মামলা দেওয়া হয়েছে এবং গণনার সময় ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ না থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, কক্সবাজারের হলিডে মোড় শাখা থেকে পাঠানো চালানের প্রকৃত মূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

ksrm