চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া মোহাম্মদ আল তাওয়াফ আদিল (১৬) চার দিন পর রাজধানী ঢাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার গোপীবাগ এলাকা থেকে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করেন। এসএসসি পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হওয়ায় অভিমান করে মা-বাবাকে না জানিয়ে সে ঢাকায় চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
আদিলের বাবা মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব ডালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের করইয়ানগর এলাকার আশরাফ সেরেস্তাদারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় আদিল। সে উপজেলার করইয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। এ বছর প্রকাশিত ফলাফলে এক বিষয়ে ফেল করেছে আদিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় অভিমান করে মা-বাবাকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় চলে যায় আদিল। সেখানে গোপীবাগ এলাকার এক ব্যবসায়ীর হেফাজতে ছিল সে। তবে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আদিলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এতে চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন তার বাবা-মা। গত চার দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়স্বজনেরা তাকে খুঁজছিলেন।
আদিলের বাবা মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব ডালিম বলেন, চার দিন ধরে তাঁরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় ছেলেকে খুঁজেছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনোভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।
তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরের দিকে হঠাৎ আদিলের মোবাইল ফোনটি চালু হয়। তখন আত্মীয়স্বজনেরা ফোন করলে এক ব্যক্তি ফোনটি ধরেন এবং জানান, আদিল গোপীবাগে তাঁদের হেফাজতে আছে।
আদিলের বাবা জানান, পরে তাঁর ভাই সরোয়ার কামাল লিটনসহ কয়েকজন আত্মীয় ঢাকার গোপীবাগে গিয়ে আদিলকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে গুলশানে আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব ডালিম বলেন, ছেলে তাঁদের সঙ্গে আছে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। এসএসসির ফল খারাপ হওয়ায় আদিল তাঁদের না জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন তাঁরা চান, সে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনায় ফিরে আসুক।
আদিলকে ফিরে পাওয়ার পর স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় পরিবারটি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।
এর আগে আদিলের নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর বাবা মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব ডালিম সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। নিখোঁজের পর পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধারে কাজ করছিল।
সিপি




