এলসি খুলতে ঋণখেলাপি এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র পেল বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমতি

ছাড় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত

একদিকে ঋণখেলাপি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ সুবিধা দেওয়ার আইনি বিধিনিষেধ। এর মধ্যেই চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের জন্য আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রটির অনুকূলে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন রেখে এলসি খুলতে পারবে। এ সুবিধা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ বিষয়ে পৃথক দুটি নির্দেশনা জারি করা হয়। পরে নির্দেশনাগুলো দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংক ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করে আমদানি এলসি খুলতে পারবে। এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭(কক)(৩) ধারার বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে না।

তবে এই সুবিধার সঙ্গে শর্তও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে দেওয়া এ ধরনের ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে এ সুবিধার কারণে রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনঃঅর্থায়ন দাবি করতে পারবে না।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এস আলমের বড় অঙ্কের ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে অন্তত ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। এর বড় অংশই এখন খেলাপি। কোনো খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এলসিসহ কোনো ধরনের ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই ব্যাংকের।

বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় অবস্থিত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিকানায় এস আলম গ্রুপের অংশীদারিত্ব ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি।

কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ইউনিট থেকে ২০২২ সালের ২৪ মে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। একই বছরের ২৮ জুন দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়।

পরে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। দুই ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।

সিপি

ksrm