আক্রান্ত
১১৩৮৫
সুস্থ
১৩৪০
মৃত্যু
২১৪

এমপি এনামের কাহিনী যেন পুরোটাই বাংলা সিনেমা!

0
high flow nasal cannula – mobile

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাংসদ প্রকৌশলী এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয়ে লিজা আক্তার আয়েশা নামের এক নারী গত দুইদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। সেই ঝড়ের ধাক্কা সরকার দলের সাধারণ সম্পাদক পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ওই নারীর দাবি অনুযায়ী এমপি এনামের সাথে তার কাহিনী যে কোন বাংলা সিনেমাকেও হার মানাবে। তবে ঘটনা পুরোপুরি সত্য নয়— এমন দাবি করে সাংসদ এনাম বলেন ইসলামী শরিয়ত মতে ২০১৮ সালে বিয়ে করেছি। দেনমোহর পরিশোধ করা ছিল। শরিয়ত সম্মতভাবেই ২০২০ সালে ডিভোর্স দিয়েছি। এতে তো এতো কাহিনীর কিছু নেই।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে সাংসদ এনামুল হক বলেন, এসব কিছু মিথ্যে, সাজানো গল্প। এসবের কোন সত্যতা নেই। ফেসবুকে লিখেই সে থেমে থাকেনি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছেও গিয়েছে। মিথ্যা বিষয় প্রচার করে এখানে-ওখানে দৌড়ালে তো সংসার করা যায় না।’

লিজা আক্তার আশেয়ার দাবি হলো, সাংসদ এনামের সাথে তার পরিচয় হয় ২০১২ সালে। ‘উনি প্রথম আমাকে ভালোবাসি বলেছিলেন। আমিও উনার কথাই মুগ্ধ হয়ে উনার প্রেমে পড়েছিলাম।’ এরপর ৩০ এপ্রিল ২০১৩ পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয় রেজিস্ট্রি ছাড়া উনার বাগমারার বাসভবনে। এনাম তখনও সাংসদ ছিলেন না, তবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন।’

বিয়ের দুই বছর পর ২০১৫ সালে আয়েশার পেটে সন্তান আসার দাবি করে তিনি লিখেছেন, ‘২০১৫ সালে আমি বেবী কনসিভ করি, উনি আমাকে বলেন নির্বাচনের আগে বাচ্চা নিতে পারবেন না, নির্বাচনের পর নেবেন। আমি সেইটাও মেনে নিয়ে এমপি সাহেবের ভালো হবে এই চিন্তা করে বাচ্চা নষ্ট করি। তারপর এমপি সাহেব আমাকে বললেন তার নমিনেশন পাইতে আর কোন সমস্যা হবে না। আমরা এখন আমাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে পারবো। ১১ মে ২০১৮ সালে আমরা পুনরায় বিয়ে করে আমাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করি। আমার জীবনের আটটি বছর ২০১২ থেকে ২০২০ আমি এমপি সাহেবের সাথে কাটিয়েছি, তার সাথে সংসার করেছি। এমপি সাহেব আমাকে বলেছিলেন নির্বাচনের পর উনি আমাকে স্বীকৃতি দেবেন, বাচ্চা দেবেন। আমি সেই অপেক্ষায় এতোগুলো বছর নীরব ছিলাম। এখন আমি সুবিচারের আশায় নিজেকে জনগণের সামনে প্রকাশ করেছি।’

‘আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেছি। আমি থেমে যাই নাই। সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন। এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন, ‘আমি গণমাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দেবেন। সবমিলিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তবে আমি থেমে নেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো। আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

লিজা আক্তার আয়েশার বাড়ি রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়। তিনি ফেসবুকে আরো লিখেছেন, ‘একজন সংসদ সদস্য অনেক বড় অবস্থানের মানুষ। তার বিরুদ্ধে চাইলেই কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না। আমার কথাগুলো যদি মিথ্যা হইতো তাহলে এতক্ষণে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যেতো। আমি যা কিছু বলছি এবং বলবো সব সত্যি। আপনারা আমাকে বিরক্ত না করে ধৈর্য্য ধরে পাশে থাকুন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ এনামুল হক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, কাবিনের টাকা নগদ পরিশোধ করে ২০১৮ সালে আয়েশার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। এবছর আমি শরিয়ত সম্মতভাবে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। সংসার করতে না পারলে যে কেউ যে কাউকে ডিভোর্স দিতেই পারে।

তবে বিয়ের আগের সম্পর্কের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, এসব কিছু মিথ্যে, সাজানো গল্প। এসবের কোন সত্যতা নেই। ফেসবুকে লিখেই সে থেমে থাকেনি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছেও গিয়েছে। মিথ্যা বিষয় প্রচার করে এখানে-ওখানে দৌড়ালে তো সংসার করা যায় না। আমি আইন অনুযায়ী ডিভোর্স দিয়েছি। আইন অমান্য করিনি। আমার সম্মান নষ্ট করে তো তার কোন ফায়দা হবে না।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm