এবার ইউপিডিএফের ২ সদস্য নিহত, পাহাড়ে দু’মাসে ৮ খুন

পৃথক দুটি ঘটনায় পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) ছয় কর্মী নিহতের পর এবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে একই সংগঠনের আরও দু’জন প্রতিপক্ষের গুলিতে মারা গেছেন।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মাচালং ব্রিজপাড়ায় এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ সদস্য দীপায়ন চাকমা (৩৮) ও আশুক্য চাকমা ওরফে আশীষ (৪৫)। নিহত দীপায়ন চাকমা ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এগুজ্জেছড়ি গ্রামের মৃত অনিল বরণ চাকমার ছেলে। আশুক্য চাকমা ৩৪ নম্বর রূপকারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোরঘোনা গ্রামের মৃত শান্তি কুমার চাকমার ছেলে বলে জানিয়েছে ইউপিডিএফ।

এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের অনিলপাড়ায় গুলি করে ইউপিডিএফের চার নেতাকে হত্যা করা হয়। দেড় মাসের মাথায় চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় আরও দুজনকে হত্যা করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় আরও দুইজন খুন হলেন। এনিয়ে দু’মাসের মাথায় পাহাড়ে ইউপিডিএফের ৮ জন মারা গেছেন প্রতিপক্ষের গুলিতে।

বুধবার দুপুরে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা অতুলাল জানান, ‘ইউপিডিএফ প্রসিত দলের দু’জন গুলিতে মারা গেছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।’

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। সংগঠনটি অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। বুধবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা সংগঠক সচল চাকমা দুই ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তবে খুনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বাঘাইছড়ি থানার সাংগঠনিক সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, ‘সাজেকে জেএসএসের সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম নেই। ইউপিডিএফের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

বিবৃতিতে ইউপিডিএফ সংগঠক সচল চাকমা বলেন, ‘রোববার দুপুর ১২টার সময় জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাজেক ইউনিয়নের মাচালং ব্রিজ পাড়ায় একটি দোকানে এসে অতর্কিতভাবে ইউপিডিএফের দুই সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলে দীপায়ন চাকমা (৩৮) ও আশুক্য চাকমা ওরফে আশীষ (৪৫) নামে দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হন।’

বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা এই হত্যার ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘ন্যাক্কারজনক’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে ইউপিডিএফের চলমান আন্দোলন বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সন্তু গ্রুপসহ ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে প্রতিনিয়ত ইউপিডএফ নেতা-কর্মীদের হত্যা করছে।’ বিবৃতিতে তিনি ‘নেতা-কর্মী খুন করে ও দমন-পীড়ন চালিয়ে ইউপিডিএফের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করা যাবে না’ মন্তব্য করে বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর খপ্পড়ে পড়ে সন্তু লারমা আবারও খুনের নেশায় মেতে উঠেছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিকামী জনতা তার এই জুম্ম ধ্বংসের কার্যকলাপ রুখে দেবে।’

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ জানিয়েছেন, ‘বাঘাইছড়ির মাচালং এলাকায় নিহত দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত; তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!