এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি মিরসরাইয়ের শতাধিক পরিবার, বিপাকে স্কুল শিক্ষার্থীরা

এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি মিরসরাইয়ের এক গ্রামের শতাধিক পরিবার। ঘূর্ণিঝড় রিমালে প্রভাবে এই গ্রামে জলাবদ্ধতা হলেও খাল দখল হওয়ায় এখনও রয়ে গেছে সেই পানি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনও পানিতে নিমজ্জিত। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পানি পার হয়ে যেতে হচ্ছে স্কুলে।

এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি মিরসরাইয়ের শতাধিক পরিবার, বিপাকে স্কুল শিক্ষার্থীরা 1

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের সরকারতালুক-ছত্তরুয়া গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।

জানা গেছে, সরকারতালুক-ছত্তরুয়া গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে খাল রয়েছে সেগুলো দখল ও দূষণে আক্রান্ত। বারইয়ারহাট-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের জন্য সড়ক উঁচু করতে হচ্ছে। সরকারতালুক গ্রামের উত্তর পাশে বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের একটি কালভার্ট ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু প্রশস্তকরণ নকশায় ওই কালভার্ট না থাকায় সেটি নির্মাণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর থেকে বসতঘরে পানিবন্দি হয়ে আছি আমরা। বাচ্চারা পানিতে পড়ে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি রান্না-বান্না করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া শিশুদের শরীরের এসব নোংরা পানির কারণে বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। রাতে সাপের আতঙ্কে বসবাস করছেন তারা। শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

ফার্মেসি ব্যবসায়ী অঞ্জন বণিক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর থেকে এখানে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এতে করে আমাদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ির যাওয়ার সময় ঢেউয়ে দোকানের মধ্যে পানি ডুকে যায়। আমরা চাই দ্রুত এটির সমাধান করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম নোমান বলেন, ‘আমরা আগে কখনও এখানে এমন জলাবদ্ধতা দেখিনি। যতক্ষণ বৃষ্টি, ততক্ষণ পানি। আগে বৃষ্টি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি চলে যেতো।’

গ্যারেজ মালিক মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার গ্যারেজটি পানির মধ্যে ডুবে আছে। পানির কারণে আমার গ্যারেজের ভেতরের মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামনে ঈদ আসছে, এখনও পর্যন্ত গ্যারেজ খুলতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে পারিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, ‘এখানে দুটি কালভার্ট ছিল। বারইয়ারহাট-রামগড় স্থলবন্দরে রাস্তা প্রশস্তকরণে যারা নিয়োজিত ছিল, তাদের আমি ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবস্থায় বলেছি, এই কালভার্ট দুটি দিয়ে এখানকার পানি নিষ্কাশন করা হয়। কালভার্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের পরামর্শ দিয়েছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার জন্য। যদি তা না হয়, আমরা পাম মেশিন দিয়ে পানিগুলো নিষ্কাশন করার ব্যবস্থা করবো।’

মিরসরাইয়ের ইউএনও মাহফুজা জেরিন বলেন, ‘দুর্ভোগের কথা শুনে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে ড্রেনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে এখানকার অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!