উৎসবে শুরু আনোয়ারার ভোট শেষ হল খুন ও সংঘর্ষে

0

সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামের আনোয়ারার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হলেও শেষ হয়েছে খুন, সহিংসতা আর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে। বুধবার (৫ জানুয়ারি) ৯০টি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট শুরু হয়, কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঘটতে থাকে ভোট কেন্দ্র ভাঙচুর, হামলা, সংঘর্ষ। বিদ্রোহী তিন প্রার্থীর ভোট বর্জনসহ ঘটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, আর র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার করা হয় রামদা, ছোরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন বুধবার সকাল থেকে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে ছিল ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। উপজেলার গুয়াপঞ্চক উচ্চ বিদ্যালয়, চাতরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যম বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়, বরুমচড়া ছমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে নারী পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বেলা ১১টায় উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী এক ইউপি সদস্যের সমর্থকদের হামলায় সিংহরা গ্রামে ওমকার দত্ত (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত ওমকার স্থানীয় দিলীপ দত্তের পুত্র।

এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টায় রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া গ্রামের পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে ৩টি ছুরি, শতাধিক লাঠি, রামদা ও ১৪টি হেলমেট উদ্ধার করেছে র‌্যাবের একটি দল। র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার (এসপি) তাহিয়া আহমেদ চৌধুরী জানান, ভোট কেন্দ্রে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য এসব মজুদ করা হয়েছিল।

অপরদিকে দুপুর আড়াইটায় পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওষখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউপি সদস্য প্রার্থী ওয়ারেস আহমেদ চৌধুরী ও প্রার্থী আল আমীন সমর্থকদের মধ্যে ভোট জালিয়াতি নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় কেন্দ্র ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় দুই প্রার্থীর সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে ওই কেন্দ্রে ২ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে নির্বাচনে উপজেলার পরৈকোড়া, বারশত, হাইলধর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পরৈকোড়া ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বারশত ইউনিয়নের আমিনুল হক ও হাইলধর ইউনিয়নের মো. সোলেমান চৌধুরী নির্বাচন বর্জন করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ ও সংরক্ষিত প্রার্থীরা ভোট জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। এতে চাতরী ইউনিয়নে ১ জন নিহত হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, নির্বাচনী সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ওষখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই কেন্দ্রে ২ ঘণ্টারও বেশি ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটাররা উৎসব করে ভোট দিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

কেএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm