উন্মুক্ত হলো পাহাড়ের দীর্ঘতম সেতু

কক্সবাজার থেকে ঘুমধুম সীমান্ত সংযোগ সড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0

রাঙামাটির নানিয়ারচরে চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতু চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এ সেতু ব্যবহার করে দুর্গম নানিয়ারচর থেকে মাত্র ১ ঘণ্টায় রাঙামাটি জেলা সদরে আসা যাবে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।

এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫শ মিটার ও প্রস্থ ১০ দশমিক ২ মিটার। এপ্রোচ সড়কসহ সেতুর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২২৭ কোটি টাকা।

এতদিন নানিয়ারচর থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌপথ। আগে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নানিয়ারচর থেকে জেলা সদরে যেতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগত। বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গেলে যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়ে যেত।

প্রধানমন্ত্রী একই সময়ে কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত সংযোগ সড়কেরও উদ্বোধন করেন। ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সীমান্ত সংযোগ সড়কে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৯ (৭৮. ৮৫) কোটি টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানিয়ারচরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণের ফলে শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন আরও একধাপ এগোলো। এতে করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি করেছিলাম। এখনো শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।

বান্দরবানের সীমান্ত সড়ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমঘুম পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণের ফলে স্থানীয়দের যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনী কাজ করছে।

ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান এসএম শফিউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নানিয়ারচর প্রান্ত থেকে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা, জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফিন, নানিয়ারচরের ইউএনও শিউলি রহমান তিন্নী প্রমুখ।

সংশ্লি­ষ্ট সূত্র জানায়, সরাসরি রাঙামাটি-নানিয়ারচর-লংগদু-বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ১৯৯৩ সালে নানিয়ারচর অংশে চেঙ্গী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নানিয়ারচরের চেঙ্গী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ঘোষণার দুই বছর পর ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। এটি বাস্তবায়নে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটেলিয়ন (ইসিবি)।

কেএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm