উখিয়ার ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

মামলা দায়েরের সময় কেউ একজন আমাকে বলেন, জসিমের ভাইয়ের নাম করিম উল্লাহ। আমি তাকে কখনও দেখিনি, চিনিও না, সে আমাদের ঘরেও কখনও আসেনি। কেন তার নাম বলতে বলেছে, জানি না। আমি চাই না নিরপরাধ কেউ শাস্তি পাক। করিম উল্লাহ সত্যিই নির্দোষ হলে, ফাইনাল রিপোর্টের সময় তার নাম বাদ দিতে আবেদন করব—কথাগুলো রহিমা হত্যা মামলার বাদি সেলিনার।

চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার তেচ্ছাখালী ব্রিজের নিচ থেকে রহিমা আক্তারের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন রহিমার মা সেলিনা। সেই মামলায় আসামির তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে ব্যবসায়ী করিম উল্লাহর নাম। অথচ যাকে আসামি করা হয়েছে, তাকে চেননই না বাদি।

ভুক্তভোগী যুবকের দাবি, দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) চক্রান্ত করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

জানা গেছে, করিম উল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমাজ বিজ্ঞান নিয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তার বাবা হামিদুল হক এবং বাবা মারা যাওয়ার পরে বড় ভাই ছলিম উল্লাহ মরিচ্যা বাজারে ব্যবসা করতেন। এরপর বড় ভাইও মারা গেলে করিম ব্যবসার হাল ধরেন। তিনিই এখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাজারের দোকান বরাদ্দসংক্রান্ত বিষয়ে ইউপি সদস্য এম মনজুর আলমের সঙ্গে করিম উল্লাহদের বিরোধ তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, করিম উল্লাহ বরাদ্দ পাওয়া দোকানটি দখল করে রাখেন ওই ইউপি সদস্য।

এদিকে ১৩ নভেম্বর পথচারীরা দুর্গন্ধ পেলে কাছে গিয়ে একটি বস্তার ভেতর লাশ দেখতে পান। উখিয়া থানায় খবর দিলে তারা রহিমার মরদেহ উদ্ধার করে। রহিমার পৈত্রিক বাড়ি জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর পাইন্যাশিয়া ওয়ার্ডে আব্দুর রহমান বদি স্কুলের পাশে। তিনি স্থানীয় আমির হোসেনের মেয়ে। স্বামীর নাম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বাড়ি হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর মরিচ্যা এলাকায়।

এ ঘটনায় রহিমার মা সেলিনার দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়—রহিমার স্বামী জসিম উদ্দিন, জসিমের ভাই মোহাম্মদ সাজ্জাদ, বাবা জাফর আলম, জসিমের অটোরিকশাচালক মোবারক হোসাইন এবং পশ্চিম মরিচ্যার করিম উল্লাহকে।

রহিমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে গোপনে বিয়ে করেন জসিম ও রহিমা। কিন্তু জসিম ঠিকভাবে ভরণপোষণ করতেন না স্ত্রীর। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। লাশ উদ্ধারের তিনদিন আগে রহিমাকে জালিয়াপালং থেকে মরিচ্যায় নিয়ে যান জসিম। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন রহিমা। পরে ব্রিজের নিচে পাওয়া যায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ।

জসিমের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করিম উল্লাহকে কখনও জসিমদের বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখেননি। স্থানীয় রাজনীতিবিদ মির্জা জহির রায়হান বলেন, ‘করিম উল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত না। তারা কেউ কাউকে চেনে না। পুরনো বিরোধের জেরে তার নাম মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোকান ও জমি নিয়ে ইউপি সদস্য মনজুর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। মসজিদ মার্কেটে করিমের নেওয়া দোকান অন্যকে ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন ওই মেম্বার।’

ভুক্তভোগী যুবক করিম উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘মনজুর আলম দীর্ঘদিন ধরে নানা উপায়ে আমাকে হয়রানি করে আসছিলেন। অবশেষে রহিমা হত্যা মামলায় ফাঁসাতে রহিমার পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেন তিনি।’

ভুক্তভোগী যুবক করিম উল্লাহ বলেন, ‘রহিমা খাতুন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তারা আমার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ নন। আমাকে পূর্বশত্রুতার জেরে আমার বাড়ির জমি ও দোকান দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বড় ধরনের মাফিয়া ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। মুখোশ পরে নানা অপকর্ম করে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে আমাকে রহিমা হত্যাকাণ্ডে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য এম মনজুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ksrm