ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইএসডিবির সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়াত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করেছে সরকার। ফলে প্রতিষ্ঠানটির তেল পরিশোধনের ক্ষমতা ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইএসডিবির সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি 1

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুলাইমান আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তি সই করা হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে।

গত বছরের জুনে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত আইএসডিবির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের ৩৬৭তম সভায় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম নগরের বিমানবন্দর সড়কে ১৯৬৮ সালে গড়ে ওঠা ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য ২০১০ সালে উদ্যোগ নেয় আওয়ামী সরকার। কিন্তু অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে নানান জটিলতায় সেটি পিছিয়ে যায়।

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরে আইএসডিবির প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দশকের পর দশক ধরে আইএসডিবি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের কাছে এই সদস্যপদের গুরুত্ব অনেক। আর সেটি কেবল অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। এটি গড়ে উঠেছে মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে পারস্পরিক বিশ্বাস, সংহতি ও যৌথ লক্ষ্যের ভিত্তিতে।

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নিছক কোনো স্লোগান নয়। রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই দশকের মধ্যেই অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।

ইস্টার্ন রিফাইনারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ কেবল জ্বালানি খাতের একটি বিনিয়োগ নয়, এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।এই প্রকল্প বাংলাদেশ এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমি আশা করছি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

ksrm