ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজিকে ঘিরে ‘অপপ্রচার’, প্রতিবাদে দরগাহ-মাজার সমন্বয় কমিটি

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটি। সংগঠনটি দাবি করেছে, তাঁর নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কুৎসা প্রচার করছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্ষদ বলেছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রশাসনিক ধারা থেকে বেরিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে জানায়, দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ধারায় অধ্যয়ন করেছেন। কামিল, দাওরায়ে হাদিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। সংগঠনটির মতে, বহুমাত্রিক শিক্ষাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আলেমের নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা, অনুবাদ, প্রকাশনা ও অন্যান্য কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।

তারা আরও দাবি করে, অতীতে বিভিন্ন কারণে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী দীর্ঘ সময় পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বর্তমান সরকার তাঁর যোগ্যতা বিবেচনায় যথাযথ মূল্যায়ন করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নিয়োগের পর থেকেই আহলে হাদিস, সালাফি, লা-মাযহাবি ও জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে প্রভাব হারানোর আশঙ্কা থেকেই এসব গোষ্ঠী এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে।

মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে ‘গুজব’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ১৩ বছর বয়সে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেছেন বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। সংগঠনটির ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সময়কালে দাওরায়ে হাদিসের কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদের প্রচলন ছিল না।

বিবৃতিতে বলা হয়, নবনিযুক্ত মহাপরিচালক গত ৭ জুন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র জমা দিলেও এখনো তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে তারা অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেছে, মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা নিয়োগ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে দেশের পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম ও ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ksrm