আক্রান্ত
৩৬৬৯
সুস্থ
২৪৮
মৃত্যু
৮৯

ইফতার ও সাহরিতে কী খাবেন, কী খাবেন না

0

মেডিসিন ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রমজানে যেহেতু সারাদিন মানুষ উপোস করে, ফলে ডায়াবেটিস কিংবা নন-ডায়াবেটিস মানুষের শরীরের কার্বহাইড্রেট ও চর্বি কমে যায়। এসব ঘাটতি মানুষের শরীরের লিভার বা মাংসপেশীতে জমে থাকা কার্বহাইড্রেট ও চর্বির মাধ্যমে পূরণ হয়। অথচ পানির অভাবটা পূরণ হয় না। মানুষের শরীর থেকে নানাভাবে যেমন ঘাম, প্রস্রাব, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে পানিটা বেরিয়ে আসে। এতে মানুষ রোজার সময় ডিহাইড্রেশনে ভোগে। অনেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বেশি করে পানি বা পানিযুক্ত লেবুর শরবত, দইয়ের শরবত, বেলের শরবত, ডাবের পানি ও ফলমূল এক্ষেত্রে বেশ উপকারী। পানিযুক্ত ফলমূল যা শরীরে পানি সরবরাহ করে যেমন তরমুজ, আপেল, আঙ্গুর, বাঙ্গি, কলা ইত্যাদি ইফতারিতে রাখা ভালো। এসব খাবার মানুষর শরীরের পানির অভাব পূরণ করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের শরবত কম পান করা প্রয়োজন।

ইফতারের সময় অতিরিক্ত তেলে ভাজাপোড়া, ছোলা, পেয়াজু , বেগুনি, আলুর চপ ইত্যাদি বর্জন করলেই ভাল। এগুলো বেশ অস্বাস্থ্যকর। শুধু রমজান মাসেই নয়, অন্যান্য সময়ও এসব খাবার বর্জন করাই উচিত।

খেজুর, তরল খাবার- যেমন স্যুপ, দই, চিড়া, শাক-সব্জির পাকোড়া (হালকা তেলে ভাজা), এমনকি ভাতও তেলে ভাজা অন্যান্য খাবারের চেয়ে বেশ উপকারী। অতিরিক্ত না খেয়ে পাকস্থলী যেটা সহজে হজম করতে পারবে তা খাওয়া ভালো। ইফতারে রাজার মত, রাতে প্রজার মত ও সাহরিতে ভিক্ষুকের মত খেতে হবে।

ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত বেশি করে পানি পান করা উচিত। একজন সুস্থ মানুষ বা অসুস্থ মানুষ যে পরিমাণ পানি পান করতে পারবে তার ততোটুকু পানি পান করা প্রয়োজন। রাতে আর সাহরির খাবারে রুটি বা ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, মাংস, এক গ্লাস দুধ ইত্যাদি রাখলে খুবই ভালো হয়।

অনেকে সাহরির খাবার রাতে ১-২ টার দিকে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, সেটা একেবারেই উচিত নয়। সাহরির শেষ সময়সূচির অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে খেতে হবে। কারণ ওই খাবারটা সারাদিন শরীরের শক্তি যোগাবে।

ইফতারের পর রোজাদারদের রাত ১০টায় ভাত খাওয়া বেশ প্রয়োজন। অনেক ডায়াবেটিস রোগী কম খাওয়া দরকার ভেবে রাত ১০টার খাবারটা খান না। সেটি তাদের জন্য বেশ ঝুঁকি। ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই ইফতারের পর রাত ১০টায় খাবার খেতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখা নিয়ে অনেকে সন্দেহে থাকেন। ডায়াবেটিক দুই ধরনের- টাইপ-১ ও টাইপ-২। টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখায় জীবনের ঝুঁকি থাকে। কারণ তাদের ইনসুলিন তৈরি হয় না উপোস থাকলে। এমন রোগীদের আমরা পরামর্শ দেই রোজা না রাখার।

আর টাইপ-২ রোগীদের মধ্যে যাদের হার্ট, কিডনি বিকল থাকে তাদেরও আমরা বলি রোজা না রাখতে। বাকি যারা রোজা রাখবেন তাদের সঠিক পরিমাণে খেয়ে, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। এছাড়া ভাজা পোড়া ও বেশি মিষ্টি খাবার পরিহার করতে হবে।

রমজান মাসে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করে সকলের সুস্থ জীবনের প্রত্যাশা করছি।

অনুলিখন: সাইরিন সাকী ও নুসরাত জাহান

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm