আসামি ধরতে গিয়ে আনোয়ারা রণক্ষেত্র, ওসিসহ আহত ১০

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মামলায় আসামি ধরতে গিয়ে মধ্যরাতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কর্ণফুলী থানা পুলিশ আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী এলাকায় আসামি ধরতে গেলে হামলার এই ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত হয়েছেন কর্ণফুলী থানার ওসিসহ আরও ৫ পুলিশ সদস্য। এ সময় পুলিশের হামলায় স্থানীয় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে মামলার আসামি মোজাম্মেল হক ওরফে গাছ মোজাম্মেলকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

এর আগে শুক্রবার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বাজেট পরবর্তী স্বাগত মিছিলকে কেন্দ্র করে বন্দর সেন্টার এলাকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জান চৌধুরী জাবেদ ও বর্তমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানের অনুসারীদের মাঝে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এতে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রীর অনুসারী এমএ মান্নান চৌধুরীসহ উভয়পক্ষের ১৮ জন আহত হয়।

ওই ঘটনায় শনিবার (৮ জুন) কর্ণফুলী থানার মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামি মো. মোজাম্মেল হক ওরফে গাছ মোজাম্মেল। তিনি অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মূলত তাকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের কাছ থেকে গাছ মোজাম্মেলকে ছিনিয়ে নেয় তার অনুসারীরা। এতে কর্ণফুলী থানার ওসি ও আনোয়ারা থানার ৪ পুলিশসদস্য আহত হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনায় পর শত শত লোক নিয়ে মিছিল করছে মোজাম্মেলের সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামি মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে এবং ওই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় তারা।’

তিনি বলেন, ‘হামলায় কর্ণফুলী থানার ওসি ও আনোয়ারা থানার ৪ সদস্য আহত হয়েছে। ওসিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ঘটনা প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা অর্থপ্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শেষে চাতরী চৌমুহনী অবস্থান করছিলাম। এর পর পুলিশ এসে হঠাৎ আমার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে চায়। আমি জিজ্ঞেস করলে আমার সাথেও পুলিশ খারাপ আচরণ করে। আমি বলছি আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মামলা হলে জামিন নেবো। আপনারা এভাবে কমান্ডো স্টাইলে আচরণ করতে পারেন না। আমি বুঝতে পারছি না পুলিশ কার ইশারায় এসব করছে? আমি মনে করছি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া আমার অপরাধ।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!