আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সহজ উপায়

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব— আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। কোরআনের ভাষায়, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি উত্তম গঠনে।’ (সূরা ত্বীন: ৪)। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারা সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। তাঁদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো ভয় নেই, আছে নিশ্চিন্ত মর্যাদা ও সুসংবাদ।

আল্লাহর ভালোবাসার পথে

বান্দার কর্তব্য, কোনো পাপে জড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তওবা করা। অনুতপ্ত মনে করা তওবা আল্লাহ গ্রহণ করেন এবং সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এভাবেই পাপের বোঝা হালকা হয়, মানুষ আল্লাহর নিকটবর্তী হয়।

মানুষের আসল সৌন্দর্য তার চরিত্রে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা কলম: ৪)। এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা তিনি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।’

আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, তুমি বলো— যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন ও তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।’ (সূরা আলে ইমরান: ৩১)।

রাতে প্রিয় হওয়ার এক আমল

এক রাতে নবী করিম (সা.) দীর্ঘ সময় নামাজ পড়তে পড়তে তাঁর পা ফুলে যায়। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হে রাসূলুল্লাহ, আপনি তো গুনাহমুক্ত, এত কষ্ট কেন?’ নবীজী উত্তর দেন, ‘আমি কি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পারব না?’
এই নামাজ— কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ— মুমিনের মর্যাদার সিঁড়ি, জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম উপায়। নবীজী কখনও এটি বাদ দেননি; সাহাবাদেরও গুরুত্ব দিয়েছেন এতে।

আল্লাহর পছন্দের কাজগুলো

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) নবীজীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আল্লাহর কাছে কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয়?’
রাসূল (সা.) বলেন, ‘সময়মতো নামাজ আদায় করা।’
তিনি আবার বলেন, ‘বাবা–মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণ করা।’
এরপর বলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’
এই তিনটি কাজেই নিহিত আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মূল শিক্ষা।

মুমিনের মর্যাদা

জিবরাইল (আ.) নবীজীকে বলেছিলেন, ‘মুমিনের মর্যাদা কিয়ামুল লাইলের নামাজে এবং তার সম্মান মানুষের কাছে নির্ভর করে আত্মনির্ভরতায়।’ ভালো আচরণ, হাসিমুখ, ঝগড়াবিবাদ থেকে দূরে থাকা— এসবও আল্লাহর প্রিয় আমল।
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিনে আমলনামায় সবচেয়ে ভারী জিনিস হবে উত্তম চরিত্র।’ (সহিহ হাদিস)।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি অপরাধের পর তওবা করে নিজেকে সংশোধন করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করবেন।’ (সূরা মায়িদা: ৩৯)।
আরেক হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘আদমের সব সন্তানই পাপ করে, কিন্তু শ্রেষ্ঠ তারা, যারা তওবা করে।’

যে গুণে প্রিয় হয় বান্দা

আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে প্রয়োজন নয় দুনিয়া ত্যাগের, দরকার শুধু সঠিক নিয়ত ও কল্যাণের ইচ্ছা। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে ভালোবাসে ও তাঁর পথে জিহাদ করে, সে-ই আল্লাহর প্রিয়।’ (সূরা মায়িদা: ৫৪)।

প্রিয় বান্দাদের জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি—
‘তাঁরা জান্নাতে সুউচ্চ কক্ষের অধিকারী হবেন, তাঁদের অভ্যর্থনা করা হবে সালাম ও শুভেচ্ছা দিয়ে।’ (সূরা ফুরকান: ৭৫)

আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের সহজ পথ— তওবা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, বিনয়, সদাচরণ ও নিয়মিত নামাজ। এ ছোট ছোট আমলই বান্দাকে করে তোলে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

ksrm