আলিফ হত্যা মামলায় ২৪ আসামির পক্ষে সাক্ষীকে জেরা, চিন্ময়ের আইনজীবী অনুপস্থিত

চট্টগ্রামের আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় বাদিকে জেরা করা হয়নি। তবে অপর ২৪ আসামির পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করা হয়েছে। এদিন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে মামলার আসামির পক্ষে আইনজীবীরা আলিফের বাবা জামাল উদ্দিনকে জেরা করা হয়।

জামাল উদ্দিনের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আজও বাদির জেরা হয়েছে। ১১ আসামি ও পলাতক ১৪ আসামির পক্ষে জেরা করা হয়েছে।আজ শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে চিন্ময় কৃষ্ণের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য আদালতে শুনানি করে তিন দফা সময় প্রার্থনা করেছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জিজ্ঞাসা করেন, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত আছেন কিনা এবং তিনি জেরা করবেন কিনা।

জবাবে তিনি জানান, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন এবং সেজন্য সময় প্রার্থনা করেন।

আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদি হয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত।

৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে গত বছরের ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদির উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।

টিএ/ডিজে

ksrm