আর ১ মাস ট্রেন চলবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে, স্থায়ীভাবে বহাল রাখার দাবি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের সময় ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেন চলাচলের এক মাস সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে এই রুটে ‘ঈদ স্পেশাল’ নামে ট্রেন চলাচল শুরু হলে পরে তা লোকোমাস্টার ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে দু’দফা বন্ধ করা হয়।

রোববার (২৩ জুন) বিকালে রেলওয়ে থেকে ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ানো বিষয়ে সিওপিএস (পূর্ব) এর পক্ষে এসিওপিএস (পূর্ব) কামাল আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেলওয়ে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ঈদ স্পেশাল ৯ ও ১০ ট্রেন আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলাচলের সময় বর্ধিত করা হলো।

এর আগে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে স্পেশাল ট্রেন স্থায়ীভাবে চালুর দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার’।

সংবাদ সম্মেলনে এ ট্রেন স্থায়ীভাবে চালু না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা।

এতে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দীন মো. রেজা ও প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদসহ বিশিষ্টজনরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, ২৫ জুন থেকে কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন বন্ধ হলে এ রুটের অপর দুই আন্তঃনগর ট্রেন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’র চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন স্থায়ীভাবে চালুর দাবিতে সোমবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএমসহ সংশ্লিষ্টদের স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপরও যদি স্পেশাল ট্রেন স্থায়ীভাবে চালুর বিষয়টি সিদ্ধান্ত না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি ঈদ উপলক্ষে চালু করা বিশেষ ট্রেন। যাত্রীদের চাহিদায় সময় বাড়ানো হয়েছিল। তবে আবারও আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ানো হয়েছে।’

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে বিশেষ ট্রেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। সে হিসেবে ওইদিন থেকে ‘ঈদ স্পেশাল’ নামে ট্রেন চলাচল শুরু হয় এই রুটে। চালুর পর থেকে এই ট্রেন স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যাত্রীদের চাপে এরপর দু’দফায় ট্রেনের সময় বাড়ানো হয় চলতি বছরের ১০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু লোকোমাস্টার ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে গত ৩০ মে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়। ওই সময় বাস মালিকদের সুবিধা দিতে ঈদের আগে হঠাৎ ট্রেন বন্ধ করার অভিযোগ তোলেন অনেকে।

এরপর সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মুখে চলতি মাসের ১২ জুন থেকে আবারও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে সেই ‘ঈদ স্পেশাল’ বিশেষ ট্রেনটি চলাচল শুরু হয়। কিন্তু সেটি ২৪ জুন পর্যন্ত চলাচলের কথা রয়েছে।

কিন্তু ২৫ জুন থেকে ট্রেনটি আবারও বন্ধ করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে চট্টগ্রামের মানুষ। ট্রেন চালু রাখতে ডিজি বরাবরে স্মারকলিপি ও সংবাদ সম্মেলনও করা হয়। এরপর আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সময় বাড়ায় রেলওয়ে।

এদিকে রোববার সকালে রেলওয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার শাহাদাত আলীকে ট্রেন চালু রাখার দাবিতে স্মারকলিপি দেয় যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন চালু রাখা ও স্থায়ী করার দাবিতে আমরা ডিজি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি আমাদের ট্রেনটি চালু রাখা ও স্থায়ী করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।’

এর আগে ২১ জুন ‘চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ পরিষদ’র নেতৃবৃন্দ মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। তাদের দাবি, ট্রেনটি স্থায়ীকরণ এবং বগি বাড়ানো ও এসি বগি সংযোজন। মেয়র এ বিষয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাইদ তালুকদার খোকন।

সোমবার (২৪ জুন) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জিএম নাজমুল ইসলাম বরাবরে স্মারকলিপি দেবেন বলেও জানান মো. আবু সাইদ তালুকদার খোকন।

মো. আবু সাইদ তালুকদার খোকন বলেন, ‘একটি বিশেষ ট্রেন চালুর পর এটি নিয়ে ‘চালু-বন্ধ’ খেলা শুরু হয়েছে। আমাদের দাবি—ট্রেনটি স্থায়ী করা, বগি বাড়ানো, এসি বগি সংযোজন ও সিডিউলে থাকা দুটি কমিউটার ট্রেন চালু করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা জিএম বরাবর স্মারকলিপি দেব।’

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের বিশেষ ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় ছেড়ে কক্সবাজার পৌঁছায় সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টায়। চট্টগ্রামে পৌঁছায় রাত ১০টায়। যাত্রাপথে ট্রেনটি ষোলশহর, জানালিহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও রামু স্টেশনে থামে এবং যাত্রী পরিবহন করে। মোট ১০টি বগিতে আসন রয়েছে ৪৩৮টি। বিশেষ ট্রেনে শোভন শ্রেণির আসনের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া ৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণি আসনের জন্য ১৮৫ টাকা। তবে কক্সবাজার পর্যন্ত এই ভাড়া যথাক্রমে ১৮৫ ও ৩৪০ টাকা।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!