সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার পরিবারের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক হওয়ার পর সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হাতে চলে এসেছে। রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং একসঙ্গে বিপুল সম্পদের আইনগত দখল ও তদারকি করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হাসান।
এর আগে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে গত ১২ জানুয়ারি আদালত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ করে এসব সম্পদের সংরক্ষণ, তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেন।
সভায় কী আলোচনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমন্বয় সভার মূল লক্ষ্য ছিল জব্দ সম্পদের আইনগত দখল নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা ঠিক করা। যাতে করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বিঘ্ন না ঘটে।
দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ সম্পদ শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ কারণে সভায় আরামিট গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও ভূমি প্রশাসনের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া বহুমাত্রিক তদারকির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
জব্দ সম্পদের পরিধি
জব্দ তালিকায় রয়েছে কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অবস্থিত আরামিট গ্রুপের ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো সিমেন্ট, অ্যালুমিনিয়াম, ফুটওয়্যার, পাওয়ার, স্টিল পাইপস ও অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলস। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি শিল্প উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।
এর বাইরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আগ্রাবাদের একটি বহুতল মার্কেট, নগরের অভিজাত এলাকায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ছয়টি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের পরিধিতে আরও কিছু সম্পদ রয়েছে।
কারা ছিলেন সভায়
সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আরামিট পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছলেহ উদ্দিন মনছুর, পরিচালক এস এম শাহ আলম, মো. জাকির হোসাইন ও মো. মোস্তাক আহমেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন এবং আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড ডিএলসির হিসাব বিভাগের ডিজিএম একেএম মারফকে আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া শিল্প পুলিশ, এফবিসিসিআই, বিসিক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), আইসিবি, বিডিবিএল ও বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অনেকেই সভায় অংশ নেন।
চ্যালেঞ্জ কোথায়
প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনি জটিলতা এড়িয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল রাখা এবং একই সঙ্গে জব্দ সম্পদের আর্থিক মূল্য সংরক্ষণ করা। দীর্ঘ সময় স্থবিরতা তৈরি হলে শিল্প উৎপাদন, শ্রমসংস্থান ও আর্থিক প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্পদ ক্রোক শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় সীমিত থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিল্প সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রশ্ন।
জেজে/সিপি




