আমরা কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হতে চাই না, চট্টগ্রামের সম্মেলনে জিএম কাদের

নগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সোলায়মান শেঠ, সম্পাদক কামাল

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, ‘আমরা আর কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হতে চাই না। আমরা কারও ‘বি’ টিম হয়ে কাজ করতে চাই না। আমরা ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ করছি না। আমরা যুদ্ধ করছি নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে, যেটা জনগণের জন্য কল্যাণমুখর রাজনীতি। সে রাজনীতি নিয়ে জনগণের মাঝে চিরজীবনের জন্য বেঁচে থাকবো। যাতে ভবিষ্যতে আমরা দেশ শাসনের সুযোগ পাবো।’

শনিবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে একটি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘সরকার যে বারংবার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছে বলছে, এই কথার মানে কী? আওয়ামী লীগ কী তাদের ঘরের টাকা দিয়ে সেতু করছে? তারা বলতে পারে, বাজেট থেকে করেছে। বাজেটেও শুভঙ্করের ফাঁকি। আমাদের বাজেটে গত চার পাঁচ বছরের মধ্যে যত টাকা রাজস্বের মাধ্যমেই আয় হয়, তার সম্পূর্ণ টাকা খরচ হয় সরকার পরিচালনার জন্য ও ঋণের সুদ দেওয়ায়। আর উন্নয়নের জন্য ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া হয় অর্ধেক, বাকি অর্ধেক বিদেশ থেকে লোন নেওয়া হয় এবং তাদের সুদের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশ।

বর্তমান সরকার জবাবদিহীতার উর্ধ্বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে, বিরোধী দলের লোকদের হ্যারেস করা হয়। সেখানে খুব ছোটখাটো অফিসার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নানান ধরনের অভিযোগ আসে, আর বড় বড় দুর্নীতিবাজদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয় যে, তারা দুর্নীতিবাজ না।’

জিএম কাদেরের বক্তব্য শেষে বেলা সাড়ে ৪টার দিকে সম্মলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। ওই সময় সর্বসম্মতিক্রমে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির নতুন কমিটিতে মো. সোলায়মান আলম শেঠকে সভাপতি, মো. ইয়াকুব হোসেনকে সিনিয়র সহসভাপতি ও আবু জাফর মো. কামালকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টিতে জাতীয় পার্টির নৈতিকভাবে সমর্থন রয়েছে। পল্লী বন্ধু হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ যখন অসুস্থ ছিলেন চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যেতে মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছিল। তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদনও করেছিলাম, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, জেলে মারা গেলে মারা যাক। সেই বেগম জিয়া আজ সেটাই ভোগ করছেন।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে জানিয়ে সাবেক মন্ত্রী চুন্নু বলেন, ‘আমরা যখন মহাজোট করি ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি ছিল। এখন সেটা দেড় লাখ কোটি টাকা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে হাজার কোটি টাকা লুট করেছে সরকার। বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে বিদ্যুৎ লাইন তৈরি না করে হাজার হাজার কোটি ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে। সরকারের এমপিরা অনেকে আমেরিকা বাড়ি করেছে, তারা কিভাবে টাকা নিয়ে গেছে, সেটা সংসদে প্রশ্ন রেখেছিলাম। সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি তারা।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একই চরিত্র উল্লেখ করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ টাকা চুরি করেছে। দেশের জনগণের কথা ভাবে না। ফ্লাইওভার করে কোটি টাকা খরচ করে। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ বেকার। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি সেইগুলো চিন্তা করে না। বেকার, শিক্ষিত চাকরি পায় না, সেটার কোনো চিন্তা নেই। কর্মমুখী শিক্ষার কোনো রোডম্যাপ নেই।’

তিনি বলেন, ‘৯০ সালের ফতোয়া দিয়ে ছিল, জাতীয় পার্টিকে কোনো দলে নেওয়া হবে না। কিন্তু এখন বিএনপি বলে কি কি লাগবে? আওয়ামী লীগ বলে আমাদের রেখে চলে যাবেন। পরবর্তী সময়ে আপনাদের মূল্যায়ন করা হবে। জাতীয় পার্টি থেকে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করব। জাতীয় পার্টি নতুন রূপে এগিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মো. সোলাইমান আলম শেঠের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপিসহ প্রেসিডিয়াম সদস্য জহুরুল ইসলাম জহির, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী ও এটিইউ তাজ রহমান।

আরএম/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!