আবাসিকে অত্যাচার/ পাঁচলাইশে দুই বাণিজ্যিক কমিউনিটি সেন্টারে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা
নগরীর অন্যতম প্রাচীন আবাসিক এলাকা ‘পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা’। ১৯৫৪ সালে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার সাথে একই সময়ে চট্টগ্রামের এই আবাসিক এলাকাটি গড়ে তোলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এই আবাসিক এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্দেশনা অমান্য করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সুইসপার্ক ও শায়লা স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টার অন্যতম। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনায় ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দিয়েও ‘সহায়তা’ করে যাচ্ছে শুরু থেকে।
পাঁচলাইশ থানা সংলগ্ন ৩০ নং প্লটে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘পার্টি হাউজ’। ২০০৬ সালে প্লটের মালিকানা হাতবদল হওয়ার পর এর নতুন নামকরণ হয় ‘শায়লা স্কয়ার’। হাতবদলের সময় পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনটির ওপর অ্যালুমিনিয়ামের গার্ড বসিয়ে চকচকে করা হয়।

শায়লা স্কয়ারের পাশেই রয়েছে সরকারি কোয়ার্টার। পঙ্কজ নামের সরকারি এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘এই কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানের সময় পুরো সড়কটি প্রায় অচল থাকে। আর যখন কোনো প্রোগ্রামে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার হয়, তখন তো বাসায় থাকাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষত এলাকার যেসব ফ্ল্যাটে বৃদ্ধ ও হৃদরোগী আছেন তাদের অবস্থাটা হয় খুবই কষ্টের।’
পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের সামনে ৪৩ নম্বর প্লটে অবস্থিত সুইস পার্ক নিয়েও একই অভিযোগ করলেন প্রকৌশলী এনামুল হক। তিনি বলেন, ‘এই ক্লাবে যখন অনুষ্ঠান চলে আতশবাজি এলাকা ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত চলে যায়। এলাকার শিক্ষার্থীদের অসুবিধা তো আছেই। মাঝে মাঝে গাড়ির জ্যাম আবাসিক ছাড়িয়ে মেডিকেল গেট, অন্যদিকে কাতালগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।’
দুটি কমিউনিটি সেন্টারের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অথরাইজড অফিসার মনজুর হাসান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার উল্লেখিত দুটি কমিউনিটি সেন্টারই অবৈধ। সিডিএ উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।’
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সেলিম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশের প্রাচীনতম পরিকল্পিত এই আবাসিক এলাকাটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানমুক্ত হয়ে শতভাগ আবাসিক এলাকা হিসেবে সগৌরবে থাকুক—এই চাওয়া এলাকার প্রতিটি বাসিন্দার। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব বাণিজ্যিক স্থাপনায় ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দিয়ে সহায়তা করেছে। এখন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিডিএ পারে এসব উচ্ছেদ করে আমাদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে।’
এ ব্যাপারে শায়লা স্কয়ারের পরিচালক ইলিয়াছ চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘সিডিএ’র নোটিশ পাওয়ার পর আমরা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এনেছি। আদালতকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যদি আবাসিক এলাকার অপরাপর বাণিজ্যিক স্থাপনা সরে যায়, তাহলে আমরাও সরে যাবো। আদালত আমাদের বিষয়টি সদয় বিবেচনা করে সিডিএ’র নোটিশের বিপরীতে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।’
সুইস পার্কের ম্যানেজার নাঈম হোসেন বলেন, ‘সিডিএর কোনো নোটিশের বিষয় আমার জানা নেই। মালিকপক্ষ বলতে পারবেন।’ তিনি মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর বা ঠিকানা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি চাকরিতে যোগ দিয়েছি তিন মাস হচ্ছে। আমার সাথে সবার যোগাযোগ নেই।’




