আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে আনোয়ারা

0

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট পারকি সমুদ্র সৈকত। একদিকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত, অন্যদিকে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদী। পেছনে ছোট-বড় পাহাড়, ঝাউবন ও সবুজের সমারোহ। এই ত্রয়ী মিলনে এক সুতোয় গাঁথা। প্রকৃতির লীলাভূমি ও বারআউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত বিধাতা যেন সৃষ্টির সবটুকু সৌন্দর্য্য উজার করে নিজের মাধুরী দিয়ে সাজিয়েছেন। সৃষ্টির আশ্চর্য্য সৌন্দর্য এখানে রয়েছে। প্রতিদিন এ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুঁটে আসেন হাজারো পর্যটক।

আনোয়ারা উপকূলকে রক্ষা করার জন্য বনবিভাগ ১৯৯৩-৯৪ এবং ২০০২ সালে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৮০ হেক্টর জায়গাতে ঝাউগাছ লাগায় পারকি ও আশপাশের এলাকায়। গাছগুলো বড় হতে থাকলে আস্তে-আস্তে করে স্থানীয়দের কাছে এটি ঝাউবাগান বলে পরিচিতি পেতে শুরু করে। আর্কিটেকচারাল পদ্ধতিতে লাগানো এ গাছ বড় হলে পরবর্তীতে পারকি পর্যটন এলাকা হিসাবে রূপ লাভ করে। বর্তমানে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে এ সৈকত। বর্তমানে পর্যটন মন্ত্রণলায় পারকি সমুদ্র সৈকতকে আধুনিক বিচ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটন করপোরেশন তিন বছর মেয়াদি পারকি বিচে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে ১৪টি বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক কটেজ, একটি মানসম্মত বার, দুটি পিকনিক শেড, দুটি কিডস কর্নার জোন, আধুনিক রেস্তোরাঁ, কনভেনশন হল, চেঞ্জিং ক্লসেট ও ওয়েটিং রুম। কার পার্কিং জোন সুবিধাও রাখা হয়েছে। বর্তমানে পর্যটন কমপ্লেক্স তৈরির জন্য নির্দিষ্ট ১৩ একর জায়গা নির্ধারিত করেছে পর্যটন করপোরেশন। ১৩ একর জায়গায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ের আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স বাস্তবায়ন হলে পারকি বিচ হবে দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র।

পারকি সমুদ্র সৈকত।

স্থানীয় বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এমএ কাইয়ূম শাহ্ বলেন, পারকি সৈকতের নানা দিক থেকে বাংলাদেশের একটি অনন্য সুন্দর বিনোদন স্পট। এখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু সেখানে রাতে থাকার জন্য কোনো সু-ব্যবস্থা নেই। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে কোনো বিনোদন কেন্দ্রও গড়ে ওঠেনি। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি হবে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, পর্যটন করপোরেশন ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পারকি বিচকে পর্যটকদের কাছে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে উপহার দিতে পারবে সরকার। এ সৈকত আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে পাল্টে যাবে আনোয়ারার চিত্র।

এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন