আক্রান্ত
১৪৯৯১
সুস্থ
৩০৬১
মৃত্যু
২৪০

আতঙ্কে দিন কাটছে ব্যাংকারদের, বেতন কমানো ও ছাঁটাই বন্ধের দাবি

2

ভালো বেতন, সামাজিক সম্মান, চাকরির নিরাপত্তা আর দ্রুত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ – সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাংকিং খাতে চাকরি সবসময় বেশ আকর্ষণীয় ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মতো ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের ব্যাংক খাতও। এরই মধ্যে সব ব্যাংকের আয়ও কমে গেছে। তাই দেশের বিভিন্ন ব্যাংক তাদের কর্মী ছাঁটাই করেছে, আর কিছু ব্যাংক কমাচ্ছে বেতন। গত কয়েক মাসে দেড় শতাধিক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে বেসরকারি এবি ব্যাংক। ব্যয় কমানোর নামে এর আগে ওয়ান ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও এবি ব্যাংক তাদের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে মহামারির এ দুর্যোগের সময়ে আতঙ্কে রয়েছেন ব্যাংকের কর্মীরা। তাই বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে তাদের কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি বা বেতন-ভাতা কমানোর চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসাসহ ব্যয় কমানো ও আয় বাড়ানোর অন্য বাস্তবভিত্তিক পন্থা অবলম্বন করার দাবির জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

সোমবার (১৩ জুলাই) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মীদের সংগঠন ব্যাংকার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (বিডব্লিউএবি) পক্ষ থেকে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট কাজী মো. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (বিডব্লিউএবি) মনে করে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি বা বেতন-ভাতা কমানো কোভিড-১৯ বা অন্য সংকট মোকাবিলায় সমাধান হতে পারে না। বিডব্লিউএবি আশা করে, সকল বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি বা বেতন-ভাতা কমানোর চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং ব্যয় কমানো ও আয় বাড়ানোর অন্য বাস্তবভিত্তিক পন্থা অবলম্বন করবে।

তবে করোনা সংকটের মধ্যেও বেশ কিছু ব্যাংক বেতন না কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ইউসিবি, এসবিএসি, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এজন্য এসব ব্যাংককে সাধুবাদ জানিয়েছে বিডব্লিউএবি।

বিডব্লিউএবি বলছে, যেসব ব্যাংকে চাকুরিচ্যুত বা বেতন কমানো হয়েছে, সেখানকার কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। অন্য ব্যাংকগুলোতেও চাকুরিচ্যুতি বা বেতন কমানোর আতঙ্ক রয়েছে। সাধারণ জনগণ মনে করে, ব্যাংকগুলো তার কর্মকর্তাদের বেতনেরই যদি সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে গ্রাহকরা তাদের আমানতের সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হবে কীভাবে? এর ফলে বেসরকারি ব্যাংকের ওপর আস্থা কমে যাবে।

ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত না করা বা পদত্যাগে বাধ্য না করা এবং তাদের বেতন না কমানোর দাবি করেছে বিডব্লিউএবি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অফিসে কাজ করার বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবিও জানান। বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনটি।

এমএহক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
2 মন্তব্য
  1. Rashal বলেছেন

    যে চাকুরি ৫,০০০/- টাকায় করার জন্য শত শত অধিক যোগ্য উচ্চ শিক্ষিত লাইন ধরে আছে, সেখানে ৫,০০০/- এর পরিবর্তে ৫০,০০০/- টাকা বেতন দিলে ব্যাংকের ব্যয় যেমন বাড়ে, ঋণগ্রহীতাদের উপর জুলুম বাড়ে, ঋণের সুদ বেশি হলে তা পরোক্ষভাবে সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হয়, চড়া দামে পন্য কিনে। ওভার বেতন সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে, একই যোগ্যতা বা বাড়তি যোগ্যতা নিয়ে অন্য পেশার মেধাবীরা অনেক কম বেতন পায়, ফলে সামাজিক বৈসম্য ও হতাশা তৈরি হয়।

    1. হাসান কাজল বলেছেন

      সঠিক বলেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm