আওয়ামী লীগ থেকে অনুপ্রবেশকারী তাড়াতে ঐকমত্য তৃণমূল-কেন্দ্রে

0

আওয়ামী লীগে সুবিধাবাদী-অনুপ্রবেশকারীদের স্থান পাওয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন চট্টগ্রামের তৃণমূল নেতারা। পাশাপাশি এ বিষয়ে একমত পোষণ করে দল থেকে এদের ঝেঁটিয়ে বের দেওয়ার কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরের দি কিং অব চিটাগাংয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের ছয়টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে চট্টগ্রামের প্রত্যেক থানায় গত দশ বছরে যারা অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে তাদের তালিকা করছে পুলিশ।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, ‘উইপোকা, হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারীদের কারা দলে এনেছে! ত্যাগী নেতাদের একটি অংশই তাদের এনেছে। তারাই এনে এখন আবার পস্তাচ্ছে। হাইব্রিডরা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলে যারা তাদের এনেছে তাদের ওখবর আর রাখে না, ফোন পর্যন্ত ধরে না। চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসর, পেট্রোল বোমার আসামি, আগুন সন্ত্রাসী- যারা অতীতে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করেছে, তাদের দলে নেওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী, উইপোকারা দলের ভেতরে ঢুকে গেছে। সৎ-ত্যাগী নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে অনুপ্রবেশকারী-হাইব্রিডরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারবে না।’

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পরপর তিনবার দল ক্ষমতায় থাকার কারণে অনেকে এখন আওয়ামী লীগ করতে চায়। দলে অনেক অনুপ্রবেশকারী-সুবিধাবাদী ঢুকেছে। তৃণমূল পর্যায়েও ঢুকেছে। সুবিধাবাদী-বর্ণচোরাদের বাদ দিয়ে সংগঠনকে পরিষ্কার করতে হবে। আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন, যে কেউ সমর্থন করতে পারে। কিন্তু ২১ বছর ধরে যারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, পেট্রোল বোমার সঙ্গে যারা যুক্ত- তাদের বের করে দিতে হবে। যেসব ছাড়পোকা-উইপোকা দলে ঢুকেছে, তাদের বের করে দিতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবাই এখন আওয়ামী লীগ করতে চায়। ২১ ডিসেম্বরের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলকে পরিষ্কার করার কাজে আমরা হাত দিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, ‘এখানে অন্য দল থেকে যোগদান সর্ম্পকে নানা কথা হয়েছে। তবে আমি বলি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখে অন্য দল থেকে লোক আসতে পারে। আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। যে কেউ আওয়ামী লীগে আসতে পারে। তবে যুদ্ধপরাধে জড়িত দলের সদস্যদের কাউকে আমরা দলে নেব না। যারা আগুন সন্ত্রাস করেছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আমরা দলে নেব না। যারা সৎ-যোগ্য, যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই, কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে তাদের দলে নেওয়া যেতে পারে। খারাপ লোকদের দ্রুত দল থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে। ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলে বসন্তের কোকিলের আগমন ঘটাবেন না। তারা কিন্তু মৌসুম আসলে আসবে, আবার মৌসুম চলে গেলে চলে যাবে। দলের দুঃসময়ে হাজার পাওয়ারের লাইট দিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই দল থেকে আগাছা-পরগাছা সুবিধাভোগীদের বের করে দিতে হবে। আমি তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিষয়টি দেখার অনুরোধ করছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করা হলে আওয়ামী লীগ টিকবে না। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে অনেক অনুপ্রবেশকারী দলের বিভিন্ন পদে জায়গা করে নিয়েছে। নেতাদের বলব, এই অপকর্ম করবেন না। অপকর্ম করে দলকে ছোট করবেন না। বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে অপকর্ম করবেন না।’

সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা সম্মেলনের সময় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি, ২৫ নভেম্বর রাঙামাটি, ২৬ নভেম্বর বান্দরবান, ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মেলন হবে। ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হবে। সেখানে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা সম্মেলন এবং ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি জেলার তৃণমূল পর্যায়ের মনোনীত নেতারা সভায় বক্তব্য রাখেন।

এডি/সিআর

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন