ওয়েলফুড মিঠাই মধুবনের লাচ্ছা সেমাইসহ ৫২ পণ্যের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

0

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও প্রয়োজনে ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাইকোর্ট।

বিএসটিআই মান পরীক্ষায় নিম্নমানের বলে প্রমাণিত হওয়ায় ওয়েল ফুড, মিঠাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাইসহ ৫২ পদের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাজার থেকে এসব পণ্য সরিয়ে ধ্বংস করা এবং মানের পরীক্ষায় কৃতকার্য না হওয়া পর্যন্ত এর উৎপাদন বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একটি রিট আবেদনের শুনানিতে রোববার (১২ মে) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আগামী দশদিনের মধ্যে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে বলেও জানানো হয়।

আগামী ২৩ মে এই রিট আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

জানা যায়, রমজান মাস শুরুর আগে খোলা বাজার থেকে ৪০৬ পণ্যের নমুনা ক্রয় করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। এরপর এসব পণ্য বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মধ্যে ৫২ পণ্য ল্যাব পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এ সব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সরিষার তেল, চিপস, খাবার পানি, নুডলস, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া, আয়োডিন যুক্ত লবণ, লাচ্ছা সেমাই, চানাচুর, বিস্কুট এবং ঘি। এরমধ্যে বাজারে ক্রেতাদের কাছে সুপরিচিত বেশ কয়েকটি কোম্পানির পণ্যও রয়েছে।

বিএসটিআই এসব পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সেগুলো এখনো বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার বা জব্দ করার কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি নামে একটি বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা। বুধবার (৮ মে)সংস্থাটি রিট আবেদন করে। সেই রিট আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্ট এই আদেশ দিলেন।

পরদিন ৯ মে ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে মানহীন খাদ্যপণ্যের তালিকা দেখে বিচারক বলেছিলেন,‘কোনো কোম্পানিই তো বাদ নাই।’

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এ দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হলেও জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, ‘যদিও এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। আদালতের এগুলো দেখার বিষয় না। তারপরও জনস্বার্থ বিবেচনায় এ বিষয়গুলো আদালত এড়িয়ে যেতে পারে না। খাদ্য নিরাপত্তার ব্যপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রত্যেকটা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ করা দরকার।’

সরকারপ্রধানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিচারক বলেন, ‘সরকার ও সরকার প্রধানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা যেন খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। প্রয়োজনে খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যেভাবে মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে করা হয়েছে’

শুনানিকালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর বলেন, ‘আমরা আশা করি সরকার খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।’

যেসব পণ্য প্রত্যাহারের আদেশ হয়েছে

আদালত যেসব পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সেগুলো হলো-তীর সরিষার তেল, জিবি সরিষার তেল, পুষ্টির সরিষার তেল, রূপচান্দা সরিষার তেল, সান চিপস, আরা ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরআর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, টেস্টি তানি তাসকিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশ হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদের গুড়া, ফ্রেস হলুদের গুড়া, এসিআই পিওর ধনিয়ার গুড়া, প্রাণ কারি পাউডার, ড্যানিস কারি পাউডার, বনলতা ঘি, পিওর হাটহাজারির মরিচের গুড়া, মিষ্টি মেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাই এর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং ময়দা, রূপসা দই, মক্কা চানাচুর, মেহেদি বিস্কুট, বাঘাবাড়ী স্পেশালের ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুযুলের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিল ফুডের হুলুদের গুড়া, মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান হলুদের গুড়া, গ্রীনলেনের মধ,কিরণ লাচ্ছা সেমাই, ডলফিন মরিচের ও হলুদের গুড়া, সূর্য মরিচের গুড়া,জেদ্দা লাচ্ছা সেমাই, অমৃত লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপার, তীর, মদিনা, স্টারশিপ, তাজ ব্র্যান্ড ও নূর স্পেশালের আয়োডিনযুক্ত লবণ।

এসএস

Loading...
আরও পড়ুন