আইআইইউসির স্প্রিং সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশনে ভূমিমন্ত্রী জাবেদ

0

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনো ইসলামবিরোধী ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

রোববার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) অডিটরিয়ামে স্প্রিং সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইসলামকে একটি সার্বজনীন ও অত্যন্ত সহনশীল ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বরাবরই ইসলামের পক্ষেই ছিল। ধর্মকে ব্যবহার করে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ওআইসি’র উদ্যোক্তাদের অন্যতম ছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন মসজিদুল আকসা আবার মুসলমানদের কাছে ফিরে আসবে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়।’

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশাল অবকাঠামোসহ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) অন্য যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। নতুন করে সাজানো গেলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সময়ের ব্যাপার।’

ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে। এটাও একটা ইবাদত। সবসময় দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করার মানসিকতা পোষণ করতে হবে। দেশ কী দেবে সেই প্রশ্ন না করে তুমি দেশকে কী দেবে সেটাই সবসময় মনে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হলে দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। এতো রক্তের বন্যা ও মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন বিশ্বে বিরল।’

আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশনের উদ্বোধন করেন আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

উদ্বোধকের বক্তব্যে সাংসদ নদভী বলেন, ‘১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ছিলাম। আরবী ভাষা ইনস্টিটিউট দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। আমার প্রচেষ্টায় বিদেশী অর্থায়নে আইআইইউসির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছিল। মাঝে ২০০৮ সালের পর থেকে আইআইইউসি’র অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাজমান বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে আবারো ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সরকারের একটা দূরত্ব ছিল। এখন নবগঠিত একটি হাই প্রোফাইল ট্রাস্টি বোর্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আইআইইউসির সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন নতুন বিভাগ খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

শিক্ষার গুণগত মানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ শিক্ষক বিদেশি ডিগ্রিধারী। মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বৎসর পূর্তি ও কনভোকেশন আয়োজন করা হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইআইইউসির বিওটি সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মছরুরুল মাওলা, আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. ইঞ্জিনিয়ার রশীদ আহমদ চৌধুরী, রিজিয়া রেজা চৌধুরী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিওটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. কাজী দ্বীন মুহাম্মদ, বিওটি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শাহাদাত হোসাইন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm