অ্যামচ্যামের নতুন নেতৃত্বে কামাল-আলা উদ্দিন, ইউএস ট্রেড শো পুনরায় চালুর অঙ্গীকার
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। রাজধানীর বনানীতে শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির অভিষেক ও দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ। নবনির্বাচিত এই পদাধিকারীদের বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আর্থিক সেবা, এফএমসিজি, রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। তিনি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও এসিআই লিমিটেডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলা উদ্দিন আহমদ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ২৫ বছরের বেশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকারকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নীতিগত ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। তিনি ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং সিএএএনজেড-এর সদস্য। অ্যামচ্যাম, ফিকি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) নেতৃত্বেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
রেজা উর রহমান মাহমুদ অর্থনীতি, কৌশল ও জনসংযোগ বিষয়ে ২২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি ডিএইচএল এক্সপ্রেস ও বাংলালিংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নীতিগত বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম স্মোক-ফ্রি পণ্য উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ হিসেবেও পরিচিত। তিনি ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি এবং সিএমএ (অস্ট্রেলিয়া)।
নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাটকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-মামুন এম. রাশেল, এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হাবিব ভূঁইয়া, অ্যাভেরি ডেনিসন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জেনারেল ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন এবং শপআপ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহিম চৌধুরী। বিভিন্ন শিল্পখাতের এই নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা নির্বাহী কমিটির সক্ষমতা ও প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নীতি প্রবর্তনে সহায়তা জোরদারে অ্যামচ্যামের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, ইউএস ট্রেড শো পুনরায় চালু করা, সদস্যপদ ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, খাতভিত্তিক সাব-কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করা, ভবিষ্যতমুখী নীতিগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং সদস্যদের জন্য আরও সহজলভ্য ও কার্যকর চেম্বার গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ তাঁর দায়িত্বকালে চেম্বারের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি তাঁর নেতৃত্ব ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পাশাপাশি বিদায়ী নির্বাহী কমিটির সদস্যদেরও তাদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়।
এ সময় বিদায়ী নির্বাহী কমিটি, নির্বাচন বোর্ড এবং আপিল বোর্ডের সদস্যদের অ্যামচ্যামের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও অন্যান্য কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন চেম্বার ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, নীতিমালা গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে তাদের সাফল্য কামনা করেন।
পরে জনপ্রিয় মার্কিন ও বাংলা গানের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজনে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক সখ্যতা এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটে।




