s alam cement
আক্রান্ত
২৫৫৯৪
সুস্থ
২২৭২৭
মৃত্যু
৩২০

অসুস্থ সুইপারকে নির্যাতন করে ‘ক্ষমতার জোর’ দেখান চবি শিক্ষক ড. শাহানারা

3

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিজ্ঞান অনুষদের ঝাড়ুদার (সুইপার) পদে নিয়োগ অনীল চন্দ্র দাসের। অনুষদের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধুমাত্র ঝাড়ুসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই তার কাজ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি ড. শাহানারা তাকে দিয়ে ঝাড়ু কিংবা পরিচ্ছন্নতার কাজ করানোর পাশাপাশি করান বাগান তৈরির কাজও। বিভাগের ভেতরে বাইরে বিশাল এলাকা জুড়ে তাকে শতাধিক ফুল ও ফল গাছের চাষ করতে হয়।

শুধু তাই নয়, আবার গাছ ও ডালপালা কেটে পাহাড়ের উপর সবজি বাগানও প্রস্তুত করতে হয় তাকে ড. শাহানারার নির্দেশে। এমনকি পাহাড়ের মাটিও কাটতে হয়েছে তাকে কখনও কখনও। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাগান করতে নির্ধারিত মালি থাকলেও ঝাড়ুদার অনীলকেই করতে হয় এসব কাজ। এসব কাজ না করলে তার ওপর নেমে আসে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মানসিক নির্যাতন।

রসায়ন বিভাগের সভাপতি ড. শাহানারা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। চবি বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও প্রক্টর ড. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী তিনি। আবুল কালাম আজাদ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতা। ২০১৭ সালের ৬ মার্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনে তিনি আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে জানা গেছে, ড. শাহানারার ভয়ে দীর্ঘদিন বাগানে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ করতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় অনীলের দেখা দিয়েছে এবার হৃদরোগ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন, তার হার্টে চারটি ব্লক ধরা পড়েছে। তাকে ভর্তি হতে হয়েছে চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীকে এভাবে অমানবিকভাবে খাটানোর গল্প শুধু এটুকুই নয়। পরের গল্প আরও অমানবিক, আরও হৃদয়বিদারক।

হার্টে ব্লক ধরা পড়া অনীলকে দুটি সরকারি মেডিকেলের চিকিৎসক ২ সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী দুই সপ্তাহ বিশ্রামে ছিলেন অনীল। কিন্তু রসায়ন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শাহানারা বেগম তার এ অসুস্থতার কথা মানতে নারাজ। তিনি অনীলের হার্টের রোগ মেনে নিলেন না। চাকরিবিধি অনুযায়ী অনীলের প্রাপ্য চিকিৎসা ছুটিগুলোকে আমলে না নিয়ে উল্টো দায়িত্বে অবহেলা ও অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিতে চিঠি দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরও রসায়ন বিভাগের সভাপতির চিঠির প্রেক্ষিতে অনীলকে করে বসেন শোকজ। একজন হার্টের রোগীর ওপর এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা।

অথচ ডিন অফিসের অধীনে থাকা কর্মচারী অনীলের বিরুদ্ধে রসায়ন বিভাগের সভাপতির অভিযোগ তুলতে হলে যেতে হবে ডিন অফিসে। এ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রেজিস্ট্রার দফতরের দ্বারস্থ হন বিভাগীয় সভাপতি।

এবার কর্মচারী অনীল চবি জামায়াতপন্থি শিক্ষক ও রসায়ন বিভাগের সভাপতি ড. শাহানারা বেগমের হাতে তাকে নির্যাতনের বর্ণনা ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ সার্বিক বক্তব্য তুলে ধরে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর শোকজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভুক্তভোগী অনীল চন্দ্র দাস তাকে নির্যাতনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।

রেজিস্ট্রার দফতরে জমা দেওয়া চিঠিতে অনীল চন্দ্র দাস উল্লেখ করেন, ‘রসায়ন বিভাগের বর্তমান সভাপতি ড. শাহানারা বেগম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পাহাড়ের মাটি কাটা, পাহাড়ে সবজি চাষ, পাহাড় থেকে লাকড়ি কাটা, পাহাড়ের জঙ্গল পরিস্কার, রসায়ন বিভাগের বাইরে ও ভিতরের বিশাল এলাকাজুড়ে ফল ও ফুল বাগানসহ নানা ভারি কাজ আমাকে দিয়ে করানো হয়েছে। আমার দায়িত্ব শুধুমাত্র ঝাড়ু দেওয়া ও বাথরুম পরিস্কার হলেও আমাকে দিয়ে আমার কাজের পরিধি-বর্হিভূত যাবতীয় কাজ সভাপতি করিয়ে আসছেন অমানবিকভাবে। ফুল ও ফল বাগানে বিষ প্রয়োগের মত ঝুঁকির কাজ আমাকে করতে বাধ্য করেন। বিষক্রিয়ায় আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিষয়টি আমি ম্যাডামকে অবহিত করলেও তিনি আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে থাকেন।’

অনিল আরও উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি আমার হার্টে রোগ ধরা পড়ে। আমি গত ৮ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হই। ১১ সেপ্টেম্বর আমাকে ছাড়পত্র প্রদান করে চমেক হাসপাতাল। এ সময় চমেক হাসাপাতালের চিকিৎসক আমাকে ১৪ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে চবির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা আমাকে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিশ্রামের লিখিত নির্দেশনা দেন। আমার অফিস প্রধান হিসেবে ডিন মহোদয় এই ছুটি পাশ করে দেন। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ছুটি আমার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। শাহানারা ম্যাডাম সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ দিয়ে তার অনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন।’

অনীল আরও বলেন, ‘শাহানারা ম্যাডাম আমাকে আমার দায়িত্বের বাইরে তার ইচ্ছেমত কাজ করতে বাধ্য করায় আমার আজ হার্টে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। চবি মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তার মতামত অনুযায়ী আমার হার্টে চারটি ব্লক ধরা পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিন অফিসের অধীনেই আমার চাকরি। সভাপতি এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে আমার বেতন বন্ধ রাখতে রেজিস্ট্রার স্যারকে চিঠি দিয়েছে৷ চিঠিতে তিনি বলেছেন, ২০১৪ সালের ২ জুলাই কর্মস্থলে আমি যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আমি অবহেলা করে আসছি। অথচ সাড়ে ৬ বছরে এ বিভাগের আরও তিন জন সভাপতি দায়িত্ব পালন করে গেছেন সুনামের সাথে। তারা কখনও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেনি।’

রেজিস্ট্রারকে দেওয়া চিঠিতে অনীল চন্দ্র দাস উল্লেখ করেন, ‘লোকমান হোসেন নামে ড. শাহানারা তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে রসায়ন বিভাগে ঝাড়ুদার পদে নিয়োগ দেওয়ার পথ সুগম করতে রেজিস্ট্রার স্যারকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে।’

ড. শাহানারা বেগমের মুঠোফোনে কল দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে রাগতস্বরে ‘আরে রাখো তো’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এমআইটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
3 মন্তব্য
  1. নাম আমার বলেছেন

    এই অনলাইন পত্রিকাটা খুঁজে খুঁজে হিন্দুদের তিল পরিমান খবরকে তাল বানিয়ে প্রচার করে।

    আমি নিজে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। আমি দেখেছি মালি এবং ঝাড়ুদার গুলো কিভাবে সারাদিন ফাঁকিবাজি করে সময় কাটায়। আবাসিক হল বা বিভাগে এরা সকালে এসে আধাঘণ্টাও কাজ করেনা, এরপর সবকটা একসাথে বিড়ি খায় আর আড্ডা দেওয়া শুরু করে।

    হলিউড প্রভোস্ট বা বিভাগের চেয়ারম্যানের কথাও এরা পাত্তা দেয় না। একেকজনের ভাব দেখে মনে হয় যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

  2. নাম আমার বলেছেন

    এই অনলাইন পত্রিকাটা খুঁজে খুঁজে হিন্দুদের তিল পরিমান খবরকে তাল বানিয়ে প্রচার করে।

    আমি নিজে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। আমি দেখেছি মালি এবং ঝাড়ুদার গুলো কিভাবে সারাদিন ফাঁকিবাজি করে সময় কাটায়। আবাসিক হল বা বিভাগে এরা সকালে এসে আধাঘণ্টাও কাজ করেনা, এরপর সবকটা একসাথে বিড়ি খায় আর আড্ডা দেওয়া শুরু করে।

    হল প্রভোস্ট বা বিভাগের চেয়ারম্যানের কথাও এরা পাত্তা দেয় না। একেকজনের ভাব দেখে মনে হয় যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

  3. জুয়েল বলেছেন

    এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক, তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার আশা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm