অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন চন্দনাইশের বিএনপি প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট
জরিমানা না দিলে ১৫ দিনের কারাদণ্ড
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দীন আহমেদের বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এমএ হাশেম রাজু। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়, নির্বাচনী এলাকা-২৯১ চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়ার আংশিক) থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় নির্বাচনী সামারি ট্রায়াল মিস কেইস নং-০১/২০২৬ এবং নির্বাচনী অভিযোগ নং-১১/২০২৬-এর ভিত্তিতে।
কমিটির আদেশে বলা হয়, অভিযোগকারী আকতার আলমের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে শোকজপ্রাপ্ত জসিম উদ্দিনের পক্ষে এমএ হাশেম রাজু বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে হাজির হন। তার জবানবন্দি পর্যালোচনায় শোকজ নোটিশে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর সামারি ট্রায়ালের জন্য মামলাটি গ্রহণ করা হয়।
তদন্তে ওঠে আসে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক এমএ হাশেম রাজু নিজ উদ্যোগে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ৯/১৭ বিধি লঙ্ঘন করেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ পাঠ করে শোনানো হলে তিনি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দিও দেন।
কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি The Representation of People Order (R.P.O) ১৯৭২-এর ৯১বি (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। তবে অভিযুক্ত ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়ায় এবং ভবিষ্যতে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করায় তাকে কারাদণ্ড না দিয়ে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিভিল জজ ও নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সানজিদা আফরোজ বৃষ্টি স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, চন্দনাইশের গাছবাড়ীয়া সৈয়দাবাদের এমএ জলিলের পুত্র এমএ হাশেম রাজু আরপিওর ৯১বি (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই সঙ্গে অভিযুক্তকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে চালানের কপি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তকে আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি সরবরাহের নির্দেশও দেওয়া হয়।
ঢাকায় চট্টগ্রাম সমিতি দখলেও রাজুর নাম
এর আগে অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা-এর কার্যালয় অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগ উঠেছিল এমএ হাশেম রাজুর বিরুদ্ধে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ৪০০ জীবন সদস্য ওই সময় অভিযোগ করেন, রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সমিতির কার্যালয়ে বহিরাগতদের শোডাউন এবং রাত্রিকালীন অবস্থান, আদালতের রায় অমান্য করে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধাদান ও আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, এম এ হাশেম রাজু নামের এক ব্যক্তি, যিনি চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র জীবন সদস্য নন, তিনি একটি মনগড়া এডহক কমিটি গঠন করে জোরপূর্বক সমিতি দখলে নেন এবং নিজেকে স্বঘোষিত আহ্বায়ক দাবি করছেন। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দিনের বেলায় কার্যালয়ের নিচে শোডাউন এবং রাতে ভবনে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। জীবন সদস্যদের অভিযোগ, রাজু গং বিনা নির্বাচনে মতা দখল করে সমিতির প্যাড ও রসিদ ব্যবহার করে ভবনের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন, যা সরাসরি অর্থ আত্মসাতের শামিল।
সাবেক আওয়ামী লীগ ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী জসীম উদ্দীন আহমেদ বিএনপি প্রার্থী ঘোষণার পরপরই চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিকের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।




