অপরাধ কমেছে চান্দগাঁওয়ে, বেড়েছে মাদকের মামলা

৯ মাসে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় কমেছে অপরাধ, বেড়েছে মাদকের মামলা। চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হয়েছে আড়াইশ’র বেশি। এছাড়াও ৭২ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ইয়াবাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময়ে শুধু পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ৭৭৮ জন।

চট্টগ্রাম নগরের অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল নগরের চান্দগাঁও থানা। ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে চলত মাদক বাণিজ্য। আবার এখানকারই একাধিক স্পটে ছিল রমরমা দেহ ব্যবসা।

তবে এসব এখন শুধুই অতীত। হালে অপরাধ দমনে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ধরা পড়েছে একের পর এক অপরাধী। সবমিলিয়ে অপরাধের অভয়ারণ্য চান্দগাঁও থানা পরিণত হয়েছে শান্তির জনপদে।

মূলত ওসি মঈনুর রহমানের বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণেই থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ভয়ংকর সব অপরাধী।

চান্দগাঁও থানা এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান, মাদক-অস্ত্র মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম প্রকাশ বুইস্যা (২৫)। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় রয়েছে আটটিরও বেশি মামলা। ভয়ংকর সেই অপরাধীকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। তার মতো আরো অনেক অপরাধী থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন ওসি মঈনুরের নিখুঁত পরিকল্পনায়।

জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আড়াইশ’র বেশি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে চান্দগাঁও থানা। ইয়াবা উদ্ধার করে ২৫ হাজার ৮২৮ পিস। যার মূল্য ৭২ লাখ ৫৩ হাজার ৪শ’ টাকারও বেশি। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় জড়িতদেরও।

Yakub Group

এদিকে ৯৪৯ লিটার দেশি চোলাই মদসহ চক্রের সক্রিয় সদস্যদের আটকেও দারুণ সফল চান্দগাঁও থানা পুলিশ। এসব চোলাই মদের আনুমানিক দাম ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫শ টাকা। ৩৫ হাজার টাকার ৩ কেজি গাঁজাও উদ্ধার করা হয়।

চান্দগাঁও থানা পুলিশের উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে সর্বাধুনিক মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। ১৮৫ গ্রাম ওজনের এই মাদকের মূল্য সাড়ে ১৮ লাখ টাকার বেশি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরে চান্দগাঁও থানায় সবচেয়ে বেশি মাদকের মামলা হয়েছে। বছরের প্রথম নয় মাসে মাদক আইনে মামলা পড়েছে ৫১টি! এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে অন্তত ৬৬ জন আসামি।

এদিকে একই সময়ে একটি একনলা বন্দুক (এলজি), ২টি কার্তুজ, ২৬টি স্টিলের টিপছুরি, ১টি কিরিচ ও ২টি ধারাল রামদাসহ গ্রেপ্তার হয়েছে ২৬ জন। তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে অস্ত্র আইনে মামলা।

চান্দগাঁও থানায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে ১৭টি। এছাড়া চোরাই যাওয়া মোটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তার হয়েছে দুই আসামি।

থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ৭৭৮ জন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মঈনুর রহমান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম চান্দগাঁও থানা এলাকা অপরাধমুক্ত করবো। এরই ধারাবাহিকতায় অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনেছি। প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলছে। অভিযানে ধরা পড়ছে মাদক-চোরাচালান চক্রের মূল হোতারা।

তিনি আরও বলেন, চান্দাগাঁও এলাকার রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠা অপরাধচক্রের হোতাদের সন্ধানে আছে থানা পুলিশ। তাদের নাগাল পেলে ছাড় দেওয়া হবে না।

চান্দগাঁও থানা এলাকায় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না— দৃঢ়কণ্ঠে বললেন ওসি মঈনুর রহমান।

আরএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm