চিকিৎসার কথা বলে নগরীতে এনে অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর এ মামলার রায় দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম এই আদেশ দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. নেজাম উদ্দিন (৪৩)। তিনি পটিয়া উপজেলার পূর্ব জিরি গ্রামের মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
জানা গেছে, যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মো. নেজাম উদ্দিন তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে নির্যাতন করত। ঘটনার সময় স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নগরীতে একটি আবাসিক হোটেলে এনে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছিল।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ জানুয়ারি পটিয়া থানার মেহের আটি গ্রামের মো. মহসিন চৌধুরীর ২২ বছর বয়সী মেয়ে শাহনাজ বেগমের সঙ্গে মো. নেজাম উদ্দিনের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর ২০১১ সালে রোজার ঈদের আগে কেনাকাটা করতে পটিয়া সদরে যাওয়ার সময় মাথায় আঘাত পান শাহনাজ বেগম। দুর্ঘটনার পর থেকে নেজাম উদ্দিন তাকে অবহেলা করত বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
অবহেলার শিকার হয়ে শাহনাজ শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ঘটনার সময় তিনি ৮ মাসের অন্তঃস্বত্তা ছিলেন।
২০১২ সালের ১১ জুলাই রাতে চিকিৎসার জন্য শাহনাজকে হাসপাতালে ভর্তির কথা বলে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার আল রেজা নামের আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে মো. নেজাম উদ্দিন।
দুইদিন পর ওই বছরের ১৩ জুলাই বিকেলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শাহনাজকে মৃত অবস্থায় তার বাবার বাড়িতে নিয়ে মো. নেজাম উদ্দিন দাবি করেছিলেন, অসুস্থ অবস্থায় শাহনাজের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহনাজ বেগমের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে মো. নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ডিজে




