s alam cement
আক্রান্ত
১০১৩১২
সুস্থ
৮৬১৬৯
মৃত্যু
১২৮২

অনাথদের টাকা মেরে চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘের নেতারা বিদেশে পাচার করছেন

চট্টগ্রামের ইসকন নেতাদের অভিযোগ

0

অনাথ শিশুদের টাকা লুটপাট করে দেশের বাইরে পাচার করেছেন চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘের নেতারা— এমন অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রামের হিন্দুধর্মীয় সংগঠন ইসকনের নেতারা। তারা অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রবর্তক সংঘের অনেক শিশু আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হয়েছে।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে ‘ইসকন’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইসকনের নেতারা প্রবর্তক সংঘের নেতাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।

এ সময় ইসকনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ‘প্রবর্তক সংঘের স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে যে, সংঘের যে কোনো উৎস থেকে আয় ও সম্পত্তি শুধুমাত্র সংঘের বিষয়গুলোর প্রচারণার কাজে ব্যয় করা হবে এবং এর কোন অংশই সংঘের কোন সদস্যের মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লভ্যাংশ হিসেবে বন্টিত হবে না। সংঘের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তাদের কোনো সেবা বা কাজের বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক দেয়া হবে না। কেননা তারাও সংঘের সদস্য হিসেবে বিবেচিত।’

ইসকনের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রবর্তক সংঘের নেতারা এই আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অনাথদের অর্থ লুটপাট, দামি জায়গা কম দামে ইজারা দেওয়া, আর দেশের বাইরে অর্থ পাচার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ‘প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে প্রবর্তক সংঘের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়ন করেছে। প্রবর্তক সংঘের অরক্ষিত যেসব জায়গা ও স্থাপনা রয়েছে সেখানে নয়, ইসকন মন্দিরে মোতায়ন করা হয়েছে। অথচ মন্দিরের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আমাদের নিজস্ব আনসার রয়েছে। এটা করে তারা প্রমাণ করতে চায়, আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছি। কারণ তারা যখন আবারও মন্দিরের স্থাপনা ভাঙতে চাইবে তখন আমরা বাঁধা দিলে আনসার সদস্যদের সামনে দিয়ে ফায়দা হাসিলের হীন প্রচেষ্টা চালাবে।’

ইসকনের নবনির্মিত মন্দিরকে ‘অবৈধ’ বলে প্রবর্তক সংঘের নেতাদের অভিযোগের জবাবে ইসকন নেতারা বলেন, ‘ইসকন যদি তাদের জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে মন্দির ও স্থাপনা নির্মাণ করেই থাকে তাহলে এসব স্থাপনা যৌথ স্বাক্ষরে সিডিএসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরে পাস হলো কিভাবে? বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির লাইন সবই ইসকন মন্দিরের নামে হলো কিভাবে? মন্দিরের কাজে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতো তাহলে তারা জানতো যে ভারত থেকে মন্দিরের জন্য অনুদানকৃত ৩৭০ মেট্রিক টন মার্বেল পাথরের শুল্ক মওকুফ হয়েছে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে। সেগুলোর শতভাগ ব্যবহার হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের দুজন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।’

Din Mohammed Convention Hall

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসকন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন নোয়াখালী মন্দিরের অধ্যক্ষ রসপ্রিয় গৌর দাস অধিকারী, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন কক্সবাজার মন্দিরের অধ্যক্ষ রাধাগোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন ফেনী মন্দিরের অধ্যক্ষ নিতাই গৌরাঙ্গ দাসাধিকারী, ইসকন কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ি মন্দিরের অধ্যক্ষ সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, বান্দরবান মন্দিরের অধ্যক্ষ উজ্জ্বল বর্ণ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন রাধামাধব মন্দিরের অধ্যক্ষ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী ও চাঁদপুর ইসকনের সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।

বিএস/সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm