অনলাইনে জুয়া খেলে সর্বশান্ত আরিফুর রহমান। বেশ কিছু টাকাও ধার দেনা তয় তার। ঢাকায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করে ধারের টাকা যখন শোধ করাও অসম্ভব। তখন ফন্দি আটলেন তিনি। নিজেই চট্টগ্রামে এসে বানালেন অপহরণের নাটক। পরিবারের কাছে চাওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা। যদিও নাটকটি সম্পূর্ণু হওয়ার আগেই তিনি ধরা পড়েন র্যাবের হাতে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুরকে উদ্ধার করা হয়।
আরিফুর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা গ্রামের সামছুল আজমের ছেলে। বর্তমানে তারা ঢাকার ভাটার এলাকায় বসবাস করেন। আরিফুর ও তার বাবা একসাথে ঢাকায় ফুটপাতে কাপড়ের ব্যবসা করেন।
এ বিষয়ে র্যাব জানায়, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আরিফুর। পরদিন আরিফের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর থেকে তার ভাইয়ের নম্বরে ফোন করে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি জানান, আরিফকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে আরিফকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আরিফের ভাই বাদি হয়ে ঢাকার ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গোপনে বা অন্যায়ভাবে আটকের উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়।
পরে র্যাব জানতে পারে আরিফ চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি এলাকায় অবস্থান করছে। রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের আরিফ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এ কারণে তিনি আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্যই তিনি নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিএস/ডিজে




