বাজার/ অজুহাতে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, নেপথ্যে ‘অন্তরালের খেলা’!

0

ভোজনরসিক বাঙালির রসনাবিলাসের উপাদান পেঁয়াজ। বছরের কিছু কিছু সময় হু হু করে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। এরই মাঝে অজুহাত সরবরাহ সংকটের। সে ধারাবাহিকতায় অজুহাতে দেখিয়ে বেড়ে চলেছে পেঁয়াজের দাম। এর মধ্যে বুধবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সর্বোচ্চ ১৬ টাকা দাম বেড়েছে। এর আগে বাজেটে আগাম শুল্ককরের জেরে এক দফা দাম বেড়েছে। সেই সময় ২০ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে হয়ে যায় কেজিপ্রতি ৩০ টাকা।

অবশেষে সেই ধারাবাহিকতায় পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দর ঠেকেছে ৪৮ টাকায়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের মনিটরিং না থাকার সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসায়ীরা প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করে। এরপরও কিছু সংখ্যক পেঁয়াজের আমদানিকারক সিন্ডিকেট করে প্রতিনিয়ত দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন।

আড়তদাররা জানান, দিনাজপুরের হিলি, সাতক্ষীরার ভোমরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া বাজেটে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সংযোজন করার কারণে মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া কোরবানির কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে এখন পর্যন্ত হঠাৎ পেঁয়াজ আমদানিতে ধস নেমেছে। এর জের ধরে দাম বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, বর্তমানে দেশে তাহেরপুরী, বারি-১ (তাহেরপুরী), বারি-২ (রবি মৌসুম), বারি-৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরী পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়। ফলে বছরজুড়েই কোনো না কোনো জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। আর ভারত থেকে আমদানি করা হয় বাকি চার লাখ টন। এই আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজই দর ওঠানামায় বড় ভূমিকা রাখে।

খুচরা ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘পাইকারি রেটে কিনতে এসেও দরদাম নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। দুই পয়সা লাভ করতে চাইলে একটু তো দাম বেশিই হবে। বাঁচতে হলে তো আমাদের ব্যবসা করেই খেতে হবে।’

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও দাম কমে যাবে। সিন্ডিকেট কারসাজির বিষয়টি সঠিক নয়। এসব মানুষের মনগড়া কাহিনী।’

এসআর/সিপি

Loading...
আরও পড়ুন